Showing posts with label i-Phone. Show all posts
Showing posts with label i-Phone. Show all posts

Saturday, December 30, 2017

অ্যাপলের আইফোন প্রতি লাভ সাড়ে ১২ হাজার টাকা

অ্যাপলের আইফোন প্রতি লাভ সাড়ে ১২ হাজার টাকা

মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তাদের আইফোন প্রতি ১৫১ ডলার বা সাড়ে ১২ হাজার টাকা লাভ করেছে। 

সম্প্রতি মার্কেট মনিটর প্রোগ্রাম ফর কোয়ার্টার ৩ রিপোর্টে এ তথ্য জানিয়েছে রিসার্চ ফার্ম কাউন্টারপয়েন্ট। আর লাভের দিক দিয়ে অ্যাপলের পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। প্রতি ফোনে স্যামসাং লাভ করেছে ৩১ ডলার। 
তবে স্যামসাংয়ের চেয়ে অ্যাপলের প্রতি ফোনে আয়ের পরিমাণ পাঁচ গুণ বেশি এবং চাইনিজ ব্র্যান্ডগুলোর চেয়ে যা ১৪ গুণ বেশি। চাইনিজ ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে, অপ্পো ও ভিভো ফোন প্রতি লাভ করেছে যথাক্রমে ১৫, ১৪ ও ১৩ ডলার।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পুরো বিশ্বজুড়ে মোবাইল হ্যান্ডসেটে লাভের পরিমাণ ১৩ শতাংশ বেড়েছে। স্যামসাং ও চাইনিজ ব্র্যান্ডগুলোর দাপটই এর প্রধান কারণ।তৃতীয় প্রান্তিকে নোট ৮ ও এস৮ সিরিজের কল্যাণে স্যামসাংয়ের লাভ হয় ২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, হুয়াওয়ের লাভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ শতাংশে। অনেকে ধরনের প্রাইস রেঞ্জের ফোন আনায় তাদের বিক্রি বেড়েছে।
কম দামে ব্যাটারি পাল্টে দেবে 'অ্যাপল'

কম দামে ব্যাটারি পাল্টে দেবে 'অ্যাপল'

আইফোনের পুরানো মডেলগুলো ধীরে কাজ করছে। ব্যাটারিও অনেক স্লো, চার্জআপ হতে অনেক সময় নিচ্ছে। এমনই বহুবিধ অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল আইফোনের নির্মাতা সংস্থা অ্যাপলের বিরুদ্ধে। এবার সরাসরি গোটা বিষয়টি তুলে ধরল বছর সতেরোর এক কিশোর। শুধু তাই নয়, সমস্যার পাশাপাশি, সমাধান সূত্রও জানালো সে।

টিলার বার্নি নামে সেই কিশোর জানিয়েছে, অনেক দিন ধরেই তার সাধের আইফোন ৬-এর সিস্টেম ‘স্লো’ হয়ে আসছিল। তারপর সে আবিষ্কার করে, ফোনের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির কারণেই এই দুর্গতি। ব্যাটারি পরিবর্তন করার পরই সমস্যা মিটে যায়।
টিলারের পোস্ট ভাইরাল হয়ওয়ার পর তা নজরে আসে অ্যাপল কর্তৃপক্ষেরও। গত বৃহস্পতিবার, অ্যাপলের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘‘আমরা বুঝতে পারছি গ্রাহকেরা কিছু সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত। গ্রাহকদের সবচেয়ে ভাল এবং সেরা পরিষেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সমস্যার দ্রুত এবং সন্তোষজনক সমাধানের চেষ্টা করব।’’ 
সেই সঙ্গে কম দামে ব্যাটারি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করে অ্যাপল। সাধারণত আইফোনের পুরনো ব্যাটারির বদলে নতুন ব্যাটারি কিনতে দাম পড়ে ৭৯ মার্কিন ডলার বা টাকায় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। সেখানে এখন ৫০ মার্কিন ডলার বা প্রায় তিন হাজার টাকায় ব্যাটারি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য আইফোনের পুরানো মডেলগুলি ‘স্লো’ হয়ে যাওয়ার কারণে মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে অ্যাপলকে। বাজারে নতুন মডেলর দর বাড়াতে ইচ্ছাকৃত ভাবে পুরনো মডেল ‘স্লো ডাউন’ করে দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও ওঠে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে অ্যাপল।

Saturday, November 4, 2017

আইফোন টেন কেন কিনবেন, কেন কিনবেন না?

আইফোন টেন কেন কিনবেন, কেন কিনবেন না?



আইফোন টেনবাজারে এসে গেছে অ্যাপলের নতুন চমক—আইফোন টেন। বিশ্বজুড়ে লাখো অ্যাপলপ্রেমীর অপেক্ষার শেষ হয়েছে। অ্যাপলের দশকপূর্তি উপলক্ষে বাজারে ছাড়া এ স্মার্টফোনটি কিনতে আগ্রহী অনেকেই। 
২৭ অক্টোবর থেকে আইফোন টেনের জন্য আগাম ফরমাশ নিতে শুরু করে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। আজ ৩ নভেম্বর থেকে আইফোন টেন হাতে পাচ্ছেন গ্রাহক। ৯৯৯ মার্কিন ডলার মূল্যের এই ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি গত ১২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেয় অ্যাপল। আলোচিত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার, যে কারণে এটি কিনতে অনেকেই আগ্রহী, আবার কিছু কারণে অনেকেই আইফোন টেন থেকে মুখ ফেরাতে পারেন। চলুন জেনে আসি কয়েকটি কারণ সম্পর্কে:
সংগ্রহে রাখার জন্য
আইফোনের দশকপূর্তি উপলক্ষে আইফোন টেন বাজারে আনে অ্যাপল। তাই এটি বিশেষ স্মার্টফোন। যাঁদের বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহের শখ আছে, তাঁরা আইফোনের নতুন সংস্করণটি সংগ্রহে রাখতে পারেন। সম্পূর্ণ নতুন নকশার একটি স্মার্টফোন নিশ্চয়ই অ্যাপলভক্তদের মন কাড়বে।
ফেস আইডি
আইফোন টেনে যুক্ত হয়েছে ফেস আইডি ফিচার, যা নতুন ট্রুডেপথ ক্যামেরার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। ফিচারটি আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে নেই। টাচ আইডির বদলে আইফোন টেন আনলক করতে ফেস আইডি ব্যবহৃত হবে। অ্যাপল পের মতো ফিচার ব্যবহার করতে এটি কাজে লাগবে। আইফোন টেনে যে সেন্সর, ক্যামেরা, চিপ ও ডট প্রজেক্টর আছে, তা অন্য আইফোনে নেই। এতে ব্যবহারকারীর মুখের ওপর ৩০ হাজার অদৃশ্য ডটের মাধ্যমে মুখের মানচিত্র তৈরি করা হয়, যা বিশেষ ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে অন্ধকারের চেহারা চিনতে সাহায্য করে।
ওএলইডি স্ক্রিন
এজটুএজ পাঁচ দশমিক আট ইঞ্চি মাপের ওএলইডি ডিসপ্লে থাকায় এটি চমকপ্রদ। এটাই ওএলইডি ডিসপ্লেযুক্ত একমাত্র আইফোন। আইফোন টেনে পিক্সেল ঘনত্ব অন্যান্য সব আইফোনের চেয়ে বেশি। ২৪৩৬ বাই ১১২৫ পিক্সেল রেজুলেশনের ডিসপ্লেতে প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল ঘনত্ব ৪৫৮ পিপিআই। আইফোন ৮ প্লাসে পিক্সেল ঘনত্ব ৪০১ পিপিআই। এটি অ্যাপলের প্রথম এইচডিআর-রেডি স্মার্টফোন। এটি ডলবিভিশন সমর্থন করে।
পোর্ট্রেট মোড
আইফোন টেনে নতুন লাইটিং ইফেক্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া আছে বিশেষ পোর্ট্রেট মোড। আইফোন টেনের পেছনে যে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসের চেয়ে উন্নত। আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসের ক্যামেরা বিভিন্ন পরীক্ষায় অন্যান্য ক্যামেরাকে পেছনে ফেলেছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানান, আইফোন টেনের ক্যামেরা আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসের ক্যামেরাকেও ছাড়িয়ে যাবে। আইফোন টেন ও ৮ প্লাসে ১২ মেগাপিক্সেল ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল ও টেলিফটো ক্যামেরা, অপটিক্যাল জুম, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল অ্যাপারচার এফ/ ১.৮ আছে। তবে আইফোন টেনে টেলিফটোতে অ্যাপারচার এফ/ ২.৪ থাকায় এটি আইফোন ৮ প্লাসের চেয়ে উন্নত। আইফোন ৮ প্লাসের টেলিফটোতে অ্যাপারচার এফ/ ২.৮। অ্যাপারচার কম থাকায় কম আলোতে উন্নত ছবি তুলতে পারবে আইফোন টেন। এ ছাড়া আইফোন টেনের ডুয়াল অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন থাকায় ছবি হবে ঝকঝকে।
অ্যানিমোজি
শুধু আইফোন টেনের জন্য অ্যানিমোজি নামের ফিচার উন্মুক্ত করেছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে অ্যাপলের নতুন ফেসিয়াল রিকগনিশন (চেহারা শণাক্তকরণ) সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেকোনো চেহারাকে অ্যানিমেটেড ইমোজিতে রূপান্তর করা যাবে। যা মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং কথা বলতে পারে। ১২ ধরনের অ্যানিমোজি প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বানর, পান্ডা, এলিয়েন ও শিয়াল।
কেন কিনবেন না
আইফোন টেন কেনার জন্য যেমন বেশ কিছু আকর্ষণীয় ফিচার আছে, তেমনি এটি না কেনার অনেক কারণ আছে। দেখে নিন এসব:
দাম
আইফোন টেন না কেনার অন্যতম কারণ হচ্ছে এর দাম। ৯৯৯ মার্কিন ডলার দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এটি আইফোনের মধ্যে সবচেয়ে দামি। বাজারে ফ্ল্যাগশিপ অন্যান্য স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে এর দাম বেশি।
প্রসেসর
আইফোন ৮ ও আইফোন ৮ প্লাসে ও আইফোন টেনে একই প্রসেসর ব্যবহার করেছে অ্যাপল। এ ১১ প্রসেসরটি অ্যাপলের সর্বশেষ ১০ ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ও ছয় কোর সিপিইউ নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, এ ১১ প্রসেসরটি আগের আইফোন ৭ ও ৭ প্লাসে থাকা এ ১০ প্রসেসরের চেয়ে ২৫ শতাংশ দ্রুতগতির।
নতুন ইন্টারফেস
আইফোনের বড় সুবিধা হচ্ছে এর ব্যবহারবান্ধব ইউজার ইন্টারফেস। সহজে ব্যবহারযোগ্য ইন্টারফেসের কারণে অনেকেই আইফোন পছন্দ করেন। কিন্তু আইফোন টেনে তা বদলে গেছে। এতে ফেসআইডি যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি হোম বাটন বিদায় নিয়েছে। এতে আইওএস ১১ থাকলেও নতুন ইন্টারফেস যুক্ত হয়েছে। আগের সোয়াইপ ও জেশ্চার আইফোন টেনে কাজ করবে না। অ্যাপ খোলা, কন্ট্রোল সেন্টার ব্যবহারে পরিবর্তন এসেছে। অর্থাৎ, নতুন আইফোন ব্যবহার জটিল। 

ফিচার
আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসের অনেক ফিচার রয়েছে আইফোন টেনে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ওয়্যারলেস চার্জিং। আইফোন টেনের জন্য বিশেষ আলাদা কোনা ফিচার নেই। একই চিপসেট, পানি ও ধূলা প্রতিরোধী ফিচার, স্টোরেজে দিক থেকেই বিশেষ কিছু নয় আইফোন টেন।
ঝুঁকি
আইফোন টেনের অল-গ্লাস নকশা দেখতে সুন্দর হলেও এটি ব্যবহারে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। দুই দিকেই কাচ থাকায় ব্যবহারকারীকে এখন দুই পৃষ্ঠ নিয়ে সচেতন থাকতে হয়। কোনোভাবে হাত থেকে পড়ে যদি কোনো পৃষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তা বদলানোর খরচ কম নয়।

Sunday, October 29, 2017

যে কারণে কিনবেন আইফোন ১০

যে কারণে কিনবেন আইফোন ১০

নভেম্বরের ৩ তারিখ থেকে আইফোন ১০ হাতে পেতে শুরু করবেন গ্রাহকরা। অ্যাপল ইভেন্টের ওপর ভিত্তি করে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট আলোচনা করেছে আইফোন ১০-এর সেরা কিছু ফিচার নিয়ে।
ওএলইডি (OLED) স্ক্রিন
অ্যাপল প্রথমবারের মতো কোনো আইফোনে ওএলইডি স্ক্রিন ব্যবহার করেছে। যাঁরা স্যামসাং ফোন ব্যবহার করেন, তাঁরা অবশ্য ওএলইডি স্ক্রিনের সঙ্গে পরিচিত। গ্যালাক্সি সিরিজের প্রথম স্মার্টফোন থেকেই ওএলইডি স্ক্রিন ব্যবহার করছে স্যামসাং। আইফোন গ্রাহকদের জন্য বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন। এলসিডি স্ক্রিনের তুলনায় ওএলইডি স্ক্রিনে অনেক বেশি পরিষ্কার ছবি দেখা যায়। আইফোন ৮ ও ৮ প্লাসে ব্যবহার করা হয়েছে এলসিডি স্ক্রিন।
ডিজাইন
আইফোন ১০-এর ডিজাইনে বিশাল পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। এজ-টু-এজ ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে ফোনটিতে। ৫ দশমিক ৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে দেওয়া হলেও এর আকৃতি আইফোন ৮ প্লাসের চেয়ে ছোট। আইফোন ৬-এর পর এটাই আইফোনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
ক্যামেরা
দুটি ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় যুক্ত করা হয়েছে ওআইএস (OIS) প্রযুক্তি, যা দিয়ে ভালো ছবির পাশাপাশি ভালো ভিডিও ধারণ করা যাবে। ভিডিও ধারণ করার সময় ফোনটি হালকা ঝাঁকুনি খেলেও ভিডিও দেখার সময় তা বোঝা যাবে না। ফোরকে (4K) ভিডিও ধারণ করা যাবে। সেলফির জন্য দেওয়া হয়েছে ৭ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
তারবিহীন চার্জার
অ্যানড্রয়েড ফোনের জন্য ফিচারটি পুরোনো হলেও আইফোনের জন্য ফিচারটি সম্পূর্ণ নতুন। এই সুবিধা যুক্ত করার জন্য ফোনের পেছনে অ্যালুমিনিয়ামের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লাস। অ্যাপলের দাবি, এটি স্মার্টফোনে ব্যবহৃত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মজবুত গ্লাস।

Friday, October 27, 2017

আইফোন ১০ (X) এর আবির্ভাব ও এর আধুনিকতা

আইফোন ১০ (X) এর আবির্ভাব ও এর আধুনিকতা

iPhone X imageআইফোন ১ম জেনারেশন (২০০৭) থেকে আইফোন ১০(২০১৭) কেটে গেছে ১০টি বছর। ২০১৭, আইফোন এর ১০ বছরপূর্তি। ১০ তম বছরে আপল রিলিজ করল আইফোন এর ১৪দশ সংস্করন, আইফোন ১০। এবছর অ্যাপলের বর্তমান কর্নধার টিম কুক একইসাথে আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস ও আইফোন ১০ এর মোড়ক উন্মোচন করেছে গত ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭। যদিও অ্যাপল ডেলিভারি দেওয়া শুরু করবে ৩ নভেম্বর, ২০১৭ থেকে। আপনি যদি নতুন আইফোনটি দ্রুত আপনার হাতের মুঠোয় পেতে চান তাহলে আপনাকে জানিয়ে রাখি, প্রি-অর্ডার প্রসেস শুরু হচ্ছে আগামি ২৭ অক্টোবর, ২০১৭ থেকে।

আবির্ভাবঃ

আইফোন সবসময় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থেকেছে প্রযুক্তি কথনের শীর্ষে। আইফোনের সিরিজ ও টাইমলাইন নিচে দেখে নিনঃ
2007iPhone (1st generation)
2008iPhone 3G
2009iPhone 3GS
2010iPhone 4
2011iPhone 4S
2012iPhone 5
2013iPhone 5S
iPhone 5C
2014iPhone 6/6 Plus
2015iPhone 6S/6S Plus
2016iPhone SE
iPhone 7/7 Plus
2017iPhone 8/8 Plus
iPhone X
টাইমলাইন থেকে ধারনা করা যায় এবার রিলিজ হওয়ার কথা আইফোন ৯। কিন্তু ১০ বছরপূর্তি উপলক্ষে অ্যাপল আইফোন ৯ কে তোয়াক্কা না করে একেবারে আইফোন ১০ রিলিজ করে দিল।

iPhone X image

আইফোন ১০ এর আধুনিকতাঃ

অ্যাপল সবসময়ই আইফোনের নতুন সংস্করনে নানাবিধ নতুন ফিচার্স যুক্ত করে নতুনত্ব নিয়ে আসে। আইফোন ১০ এ ও তার কোন ব্যাতিক্রম নেই। সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এতে যা আইফোন এর গত প্রসেসর থেকে ৭০% দ্রুত গতি সম্পন্ন। এবারই প্রথম বারের মত অ্যাপল নিজেদের তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট ব্যবহার করেছে। তাররহীন ফাস্ট চার্য প্রযুক্তি, খুবই আধুনিক জিপিএস এর ব্যবহার, সবচেয়ে আধুনিক ব্লুটুথ প্রযুক্তির ব্যবহার আসলেই অ্যাপল এর মানকে অটুট রেখেছে।
এটি নতুন ও অত্যাধুনিক সব ফিচারে টইটুম্বুর। আসুন কথা বলা যাক আইফোন ১০ এর সবথেকে সেরা নতুনত্ব ডিসপ্লে ও এর ক্যামেরা নিয়ে।

ডিসপ্লেঃ

আইফোন ১০ এ ব্যবহৃত হয়ে ৫.৮ ইঞ্চি সুপার রেটিনা ডিসপ্লে। ডিসপ্লেটির চার কোনা বৃত্তাকার(Rounded)। ডিসপ্লে তে ক্রাশ প্রোটেকশনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। থ্রি-ডি টাচ সাপোর্টেড ও এইচ ডি আর তো আছেই। ভাবছেন এ আর নতুন কি?
Display image
নতুনত্ব হচ্ছে আইফোনে প্রথম বারের মত ব্যবহার করেছে ওলেড(OLED) ডিসপ্লে। হয়ত জেনে থাকবেন ওলেড একটু স্যাচুরাটেড কালার দেখায়। কিন্তু অ্যাপল আশ্বস্ত করেছে এই ডিসপ্লেটি যথাযথভাবে বাস্তব ও সঠিক কালার প্রদর্শন করবে। ডিসপ্লেটি বেজেলহীন, বলতে গেলে উপরের পুরটা পৃষ্ঠ জুরেই ডিসপ্লে বিদ্যমান।
এর আগে আমরা হালের বাজেট স্মার্টফোন খ্যাত শাওমির “মি মিক্স” এ বেজেলহীন ডিসপ্লে দেখি। স্যামসাং এর “এস ৮” এ ও আমরা বেজেলহীন ডিসপ্লে দেখি যাকে স্যামসাং বলে ইনফিনিটি ডিসপ্লে। আইফোন এ এই প্রথম বারের মত ব্যবহৃত হয়েছে এই বেজেলহীন ডিসপ্লে এর প্রযুক্তি।
যদিও ডিসপ্লে এর উপরে দিকে স্পিকার ও ফ্রন্ট ক্যামেরার জন্য জায়গা দিতে গিয়ে অ্যাপল একটু অদ্ভুত ভাবেই ডিস্প্লেটিকে কেটেছে। কিন্তু তবুও ডিসপ্লের সৌন্দর্য খুব একটা নষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়না। আপলের রেটিনা আর ওলেড প্রযুক্তির ব্যবহার ডিসপ্লেটিকে আসলেই অসাধারন নতুনত্ব দিয়েছে।
Camera display

ক্যামেরাঃ

স্মার্টফোন ক্যামেরার জন্য আইফোন বরাবরই অতুলনীয়। অনেক শর্টফিল্ম ও নাটকে আইফোনের ক্যামেরার ব্যবহার হয়ে থাকে। সবসময়কার মত এবারও আইফোন এর ক্যামেরা স্পেসিফিকেশন হতাশ করেনি বরং আরো নতুনত্ব এনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শীর্ষে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ডুয়েল ক্যামেরা, দুটি ই ১২ মেগাপিক্সেল। একটি ওয়াইড এঙ্গেল আরেকটি টেলিফটো। ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স এর অ্যাপারচার ভাল্যু ১.৮ এবং টেলিফটো লেন্স এর ২.৪।
দুটি ক্যামেরাতেই পৃথকভাবে ৪ এক্সিস অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন রয়েছে যা শার্প ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত উপকারি এবং কম আলোতেও ব্রাইট ছবি তুলতে সক্ষম। র-ফরম্যাট এ ছবি তোলা, এইচ ডি আর, প্যানেরোমা, পোর্ট্রেইট মোড তো আছেই। নতুন কি? ক্যামেরা দুটি পাশাপাশি না রেখে রাখা হয়েছে উপর নিচ করে। অ্যাপল এর ভাষ্য মতে এটি ছবি তোলার অভিজ্ঞতাকে বাড়িয়ে দিবে বহুগুণ।
Face ID image
ফ্রন্ট ক্যামেরাতে ব্যবহৃত হয়ে এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি “ফেস রিকগনিশন”। সিকিউরিটির জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট এর পরিবর্তে এই নতুন প্রযুক্তি। ক্যামেরা ফেস এর উপর ৩০হাজার ডট নিয়ে আপনাকে আইডেন্টিফাই করবে। এতে বোঝা যায় ক্যামেরার দেখার গভীরতা কত বেশি। কতটুকু সিকিউরড? অ্যাপল জানিয়েছে আপনি এই ফেস আইডি আপনি পেমেন্ট মেথোড এর সিকিউরিটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রশ্ন থাকতে পারে যে বয়সের সাথে মানুষের চেহারার পরিবর্তন হয়, বিভিন্ন সিচুয়েশানে চেহারার পরিবর্তন হয় সেক্ষেত্রে কি হবে! ভয়ের কিছু নাই! আপনার আইফোন আপনাকে খুব ই ভাল চিনে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে একটি অত্যাধুনিক ম্যাশিন লার্নিং চিপ যা সময়ের সাথে আপনার চেহারার পরিবর্তন খুবই ভালভাবে মনে রাখবে। আর হ্যা, স্মার্টফোনে এই প্রথম এই ধরনের অত্যাধুনিক চিপের ব্যবহার হল। ওহ বলাই হয়নি রাতের বেলা কি হবে? লো লাইটে আপনার স্ত্রী আপনাকে চিনতে ভুল করতে পারে কিন্তু আপনার গার্লফ্রেন্ড আইফোন ১০ নয়!   😛
Video Player
00:02
00:05
ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আপনি “অ্যানিমজি” নামক এক মজাদার প্রযুক্তির মজা নিতে পারবেন। টকিং টম এর ফ্যান না এমন খুব কম ই পাওয়া যাবে! এই অ্যানিমজি কে বলা যায় তার ই অত্যাধুনিক সংস্করণ। আপনি কথা বলার সময় আপনার চেহারার মাসলগুলো ঠিক যেভাবে নড়াচড়া করে, অ্যাপ এ আপনার পছন্দের ডামি প্রানিটির ও ঠিক একইরকম মুখভঙ্গি দেখতে পাবেন! ইন্টারেস্টিং না?
আইফোনের আধুনিকতা বরাবরের মত এবারো অটুট থেকেছে। স্টিভ জবস (গতঃ ৫ অক্টোবর, ২০১১) সুদুরপ্রশারি চিন্তার ফল এখনো মানুষ পাচ্ছে।
অ্যাপল আনল আইফোন ৬ এস ও ৬ এস প্লাস

অ্যাপল আনল আইফোন ৬ এস ও ৬ এস প্লাস


নতুন প্রজন্মের দুটি মডেলের আইফোন বাজারে ছাড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। ৬ এস ও ৬ এস প্লাস নামের এই ফোন দুটিতে ফিচার হিসেবে এসেছে থ্রিডি টাচ প্রযুক্তি। বিশেষ একটি ‘রোজ-গোল্ড’ রঙের আইফোন সংস্করণের ঘোষণাও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন আইফোনসহ আইপ্যাড ও অ্যাপল টিভিরও ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 
বিল গ্রাহাম সিভিক অডিটোরিয়ামে আইফোন ৬ এস ও বড় মাপের ৬ এস প্লাস ঘোষণা দেওয়ার সময় অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক বলেন, ‘আইফোনের মতো নতুনত্ব অন্য কোনো পণ্যে নেই।’ 
নতুন আইফোনে যে থ্রিডি টাচ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তাতে ব্যবহারকারী ট্যাকটাইল ফিডব্যাক বা উন্নত ভাইব্রেশন প্যাটার্ন সুবিধা পাবেন। এ ছাড়াও শর্টকাট মেনু তৈরিতেও বিশেষ সুবিধা হবে। 
আগে থেকেই এ ধরনের প্রযুক্তি অ্যাপল পণ্যে রয়েছে। অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাকবুক ও ম্যাকবুক প্রোতে ‘ফোর্স টাচ টেকনোলজি’ নামের এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। 
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হবে নতুন আইফোন। ফোরকে মানের ভিডিও ধারণ করার জন্য এই ফোনের পেছনে উন্নত আই-সাইট ক্যামেরা যুক্ত করেছে অ্যাপল। ফোরকে ডিসপ্লেতে রেজুলেশন থাকে ৩৮৪০ বাই ২১৬০ যাতে পিক্সেল ঘনত্ব হয় ইঞ্চি প্রতি ৮০৬। গত বছরে বাজারে আসা আইফোন ৬ এ আট মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকলেও নতুন আইফোনের পেছনে ১২ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যুক্ত হয়েছে। লাইভ ফটোজ নামের নতুন একটি ফিচারও যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 
১৬ জিবি, ৬৪ জিবি ও ১২৮ জিবি এই তিনটি সংস্করণে বাজারে পাওয়া যাবে নতুন আইফোন। যুক্তরাজ্যের বাজারে ৬ এসের দাম হবে যথাক্রমে ৫৩৯,৬১৯ ও ৬৯৯ পাউন্ড। এস প্লাসের দাম হবে ৬১৯,৬৯৯ ও ৭৮৯ পাউন্ড। নতুন আইফোন দুটির মাপ হবে চার দশমিক সাত ইঞ্চি ও সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে ৬৪ বিটের এ৯ চিপ। 
অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন ঘোষণা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি বিশ্বে গুজব ছিল। গতকাল আইফোন ঘোষণার অনুষ্ঠানে ‘রোজ-গোল্ড’ রঙের বিশেষ একটি মডেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে সোনলি, রুপালি ও ধূসর রঙের আইফোন বাজারে ছিল। অ্যাপলের দাবি, নতুন মডেলের এই আইফোনে আরও উন্নত অ্যালুমিনিয়ামের কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। 
নতুন আইফোন সম্পর্কে টিম কুক বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত স্মার্টফোন।’ এই স্মার্টফোন চলবে অ্যাপলের আইওএস ৯ অপারেটিং সিস্টেমে। এ বছরের গ্রীষ্মের সময় ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডেভেলপার সম্মেলনে (ডব্লিউডব্লিউডিসি) এই অপারেটিং সিস্টেমের ঘোষণা দেয় অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। 
আইওএস ৯ এ ফিচার হিসেবে রয়েছে ডিজিটাল সহকারী সিরির উন্নত সংস্করণ। এমনকি এটি ব্যাটারির চার্জ বাড়তি এক ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁচাতে পারে। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আইওএস ৯ ডাউনলোড করা যাবে। 
বাজার বিশ্লেষকেদের মতে, অ্যাপলের আয়ের সিংহভাগ আসে আইফোন বিক্রি থেকে। এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে বিভিন্ন সংস্করণের চার কোটি ৭৫ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি হয়েছে। 
অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দুটি মডেলের আইফোনের আগাম ফরমাশ নেওয়া শুরু হবে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো হবে।